হরমুজে ভয়াবহ উত্তেজনা! ইরানের ১০ জাহাজে হামলা, তেলের দাম ছাড়াল ১০০ ডলার
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। হরমুজ প্রণালীর আশপাশে পাল্টাপাল্টি হামলায় জ্বালানি পরিবহন ও বৈশ্বিক তেলবাজারে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের পর তারা হরমুজ প্রণালীর কাছে ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী জাহাজ রয়েছে বলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ইরান জর্ডানে মার্কিন বাহিনী ব্যবহৃত একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করে। জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টির মধ্যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
তেলের বাজারে বড় ধাক্কা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করে। দিনের এক পর্যায়ে ব্রেন্টের দাম ১০০.৬৬ ডলারে পৌঁছায়।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। সংঘাতের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মঙ্গলবার মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে, যেখানে ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১২টি।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন আরও কমে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর এশীয় দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সামনে কী?
ইরান আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজার এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে—হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন কোনো পর্যায়ে পৌঁছায় কি না।

