ইরানের ৫ তেলবাহী ট্যাঙ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দুই দফা লক্ষ্য করার পর প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, M/T Kaviz, M/T Charminar, M/T Horizon 1 ও M/T Riesco নামের চারটি ট্যাঙ্কার গালফ অব ওমানে এবং M/T Derya নামের আরেকটি ট্যাঙ্কার খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার শিকার হয়। হামলার আগে পাঁচটি জাহাজের ক্রুদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ট্যাঙ্কারগুলো ইরানের তেল রপ্তানির একটি ‘শ্যাডো নেটওয়ার্কের’ সঙ্গে যুক্ত ছিল, যার মাধ্যমে আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়ন করা হতো। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এরপর ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর আল-আজরাক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। জর্ডানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাতের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৯.৪৬ ডলারে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বিশ্ববাজার, জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

