আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ঘিরে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপসাগরীয় এলাকায় একটি নতুন ‘রেস্ট্রিকটেড জোন’ ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নতুন একটি নৌপথের মানচিত্র প্রকাশের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, নতুন ঘোষিত এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন একটি আন্তর্জাতিক নৌকরিডোর পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
তবে ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জাহাজকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে।
তেলের দামে নতুন চাপ
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯৬ ডলার ব্যারেলপ্রতি পর্যায়ে ছিল এবং একপর্যায়ে প্রায় ৯৭.৯৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। গত সপ্তাহেই ব্রেন্ট ও WTI—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হামলা ও সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ১২০ ডলার ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্ববাজারে উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। এই পথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, পণ্য উৎপাদন ও মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
ইতোমধ্যে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা এখন হরমুজ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পরবর্তী গতিপথের দিকে নজর রাখছেন।
সামনে কী হতে পারে?
হরমুজ প্রণালিতে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে জাহাজ চলাচলে আরও বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এতে তেলের সরবরাহ কমে গেলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগও রয়েছে।
তবে আপাতত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন ইরানি ঘোষণাই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: Reuters

