🔴 যারা প্রফেশনাল নিউজ সাইট ও ইকমার্স সাইট বানাতে চান আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন — 📞 ফোন: 01712145053 | 💬 WhatsApp: 01712145053
প্রবাস বাংলা নিউজ

গালফে নতুন উত্তেজনা: ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ৫ম নৌবহর ঘাঁটি, বদলাচ্ছে পেন্টাগনের হিসাব

গালফে নতুন উত্তেজনা: ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ৫ম নৌবহর ঘাঁটি, বদলাচ্ছে পেন্টাগনের হিসাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন হামলার পর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এতে গালফ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি Naval Support Activity Bahrain—যেটি ৫ম নৌবহরের কার্যক্রমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত—যুদ্ধের শুরুতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিতে নৌবাহিনী অদূর ভবিষ্যতে ফিরছে না

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট ছবি ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির কথা উঠে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণেও যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিপুল সংখ্যক অবকাঠামো ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

পেন্টাগনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

বাহরাইনের ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি গালফ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়েও ওয়াশিংটনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু ঘাঁটি আগের অবস্থায় পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, নাকি যুক্তরাষ্ট্র আরও ছোট ও ছড়িয়ে থাকা সামরিক অবকাঠামোর দিকে যাবে—তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।

অন্যদিকে, ২ সেপ্টেম্বরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা, রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এর জবাবে ইরান জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প-পুতিনের ভূমিকা নিয়েও নজর

এই সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য কূটনৈতিক ভূমিকার দিকেও আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে। তবে পুতিন সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন—এমন দাবি করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই

সব মিলিয়ে গালফ অঞ্চলের সামরিক পরিস্থিতি আবারও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য কৌশলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে। তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে; নতুন করে সংঘাত বাড়ায় অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে।

পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, যুক্তরাষ্ট্র তার গালফ সামরিক উপস্থিতি কীভাবে পুনর্গঠন করে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় কি না—এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *