🔴 যারা প্রফেশনাল নিউজ সাইট ও ইকমার্স সাইট বানাতে চান আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন — 📞 ফোন: 01712145053 | 💬 WhatsApp: 01712145053
প্রবাস বাংলা নিউজ

পাবনায় ধর্ষণের ১৫ মিনিটের মধ্যেই শিশু কলিকে হত্যা: পুলিশের দাবি।

পাবনায় ধর্ষণের ১৫ মিনিটের মধ্যেই হত্যা করা হয় শিশু কলিকে

রিমান্ডে আসামির স্বীকারোক্তির কথা জানিয়েছে পুলিশ, তদন্তে আরও তথ্য পাওয়ার দাবি
পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাগরিবের নামাজের পর শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং এর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের সাত দিন পর, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রিমান্ডে কী তথ্য পাওয়া গেছে
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই বেনু রায় পিপিএমের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলি মোস্তফার মুদি দোকানের সামনে অবস্থান করছিল। মাগরিবের নামাজের পর তাকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পর মোস্তফা আবার নিজের দোকান খোলেন এবং নিহত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এমনকি কলিকে খোঁজার কার্যক্রম ও তার সন্ধানের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
দুই আসামির বক্তব্যে ভিন্নতা
পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে মোস্তফা প্রামাণিক ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দুজন মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
তবে অপর আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, হত্যার পর মোস্তফা তাঁর কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং তিনি শুধু মরদেহ গোপনের কাজে সহযোগিতা করেন।
দুই আসামির বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষা
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, নিহত শিশুর আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। ডিজিটাল ফরেনসিকসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের ঘটনায় একজন নাকি দুজন জড়িত ছিলেন, তা আরও স্পষ্ট হবে।
পুলিশের দাবি, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এদিকে, শিশু কলি হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *