ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে। মঙ্গলবার প্রণালিটি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে গত ১০ দিনের গড় ছিল ১৮টি জাহাজ। তবে কিছু জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করে থাকতে পারে বলে শিপিং ডেটায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বব্যাপী বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন সাগর ড্রোন দখলের চেষ্টা করা দুটি ইরানি ছোট নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানি পক্ষ ঘটনাটির ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং নৌযানগুলো মাছ ধরার নৌকা ছিল বলে দাবি করেছে।
অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর হামলাও আঞ্চলিক সংঘাতের পরিধি বাড়াচ্ছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, বুধবার মক্কার কাছে একটি হুথি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের এই দাবি অস্বীকার করেছে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট অফিসের হিসাবে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং ব্যয় প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।
জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।
এখন সংঘাতের অন্যতম বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কতটা স্বাভাবিক করা যায়। একই সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ কোনো অগ্রগতি আনতে পারে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।

