আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পারস্য উপসাগরে নতুন করে সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা ও ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করার সক্ষমতার দাবিও করেছে ইরান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান উপসাগরে একটি নতুন সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রিত এলাকা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দেশটির বাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে উন্নত কাসেম বাসির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের জাহাজগুলো ওই হামলা এড়িয়ে গেছে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান Kpler-এর হিসাবে, সোমবার মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এর আগে প্রতিদিনের চলাচল ছিল আরও বেশি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হলেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে রয়েছে। তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বাজারে নতুন করে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের নজর এখন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার দিকে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় পড়তে পারে।

