
জাতিসংঘে ইরানের ৭ দিনের রোডম্যাপ, শর্ত পূরণ হলে খুলবে হরমুজ
নিউইয়র্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন প্রস্তাব সামনে এসেছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত পূরণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর পথ তৈরি হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে পরদিন থেকেই সময় গণনা শুরু হবে এবং সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার কথা বলা হয়েছে।
কী রয়েছে ইরানের প্রস্তাবে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার
ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার
আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি, যার আওতায় লেবাননও থাকবে
এসব শর্ত বাস্তবায়নের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা
এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করা।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এখন ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের অবস্থান
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব গ্রহণ করলেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। একইসঙ্গে তেহরানের সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলবে না বলেও ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফলে এই পথের পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

