ইরান যুদ্ধে ফের উত্তেজনা, তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এক মাসের তুলনামূলক সামরিক বিরতির পর গত কয়েক দিনে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি অঞ্চল খার্গ দ্বীপের কাছে তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দুটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেলবাহী জাহাজগুলোতে হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় দুটি জাহাজ অচল এবং অপর একটি জাহাজ ধ্বংস হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বাণিজ্যিক চলাচলে চাপ অব্যাহত রাখলে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা আরও তীব্র হতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে চলাচলকারী জাহাজগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ববাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে জ্বালানি ও পরিবহন খাতে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।
কূটনৈতিক সমাধানের পথ কতটা দূরে?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য এর আগে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ—এসব বিষয় এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বড় বিরোধের কারণ হয়ে আছে।
সর্বশেষ সামরিক সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কি আবার আলোচনার টেবিলে ফিরবে, নাকি সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করবে?

