যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দামে বড় উল্লম্ফন, রেকর্ড পর্যায়ে ডিজেল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে, যা দেশটির পরিবহন ও কৃষিখাতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত পেট্রলের গড় দাম প্রায় ৪.১৫ ডলার প্রতি গ্যালনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ডিজেলের দাম বেড়ে ৫.৮৫ ডলার প্রতি গ্যালন হয়েছে, যা আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
কেন বাড়ছে তেলের দাম?
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেল সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর সেখানে মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ পার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে ১০ দিনের গড় ছিল ১৫টি।
এর প্রভাব আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারেও পড়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর সপ্তাহের শেষ লেনদেনে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ির জ্বালানি খরচই বাড়ে না; পরিবহন, কৃষি, পণ্য সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় এর প্রভাব বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দামের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও জানিয়েছে, অপরিশোধিত তেলের দাম ও পরিশোধন খাতে বাড়তি ব্যয় পাম্পে জ্বালানির দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
সামনে কী হতে পারে?
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কতদিন উচ্চ থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর। সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম আরও চাপে থাকতে পারে।
অন্যদিকে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে তেলের দাম কমার সুযোগও তৈরি হতে পারে। বর্তমানে বাজারে অনিশ্চয়তা থাকায় পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

