ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাত: নতুন করে বাড়ছে উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শঙ্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে নতুন হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার ও যোগাযোগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে। এর পর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি স্থাপনার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়েছে উত্তেজনা
ইরানের পাল্টা হামলার মধ্যে কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করার দাবি সামনে এসেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলার সময় সক্রিয় ছিল এবং বেশ কিছু হুমকি মোকাবিলা করা হয়েছে। তবে মার্কিন এক কর্মকর্তার দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা কোনো মার্কিন সামরিক স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি।
ইসরায়েলের অবস্থানও কঠোর
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পাশাপাশি ইসরায়েলও উচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান সতর্ক করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল বড় ধরনের অভিযান চালালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
তবে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে বড় আকারের সরাসরি হামলার খবর নিশ্চিত হয়নি। ফলে সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্রভাব পড়ছে জ্বালানি ও নৌ-বাণিজ্যে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে অপরিশোধিত তেলের বাজারে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে চলতি সপ্তাহে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বাড়ার পথে ছিল।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কতটা?
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং হামলা-পাল্টা হামলার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিন ইরান কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না—তার ওপর সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত যদি ইসরায়েল, লেবানন ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে আরও সরাসরি জড়িয়ে ফেলে, তাহলে এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও নতুন মার্কিন হামলার তাৎক্ষণিক ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।

